সবাই জীবনে কমবেশি সফল হতে চায় কোন না কোন দিক দিয়ে। আমিও চাইতাম। শচীন টেন্ডুলকারের একটা কথা আমার খুব ভাল লাগে, “There is no shortcut to success.” কথাটা ভয়ানকভাবে সত্যি। তুমি চাইলেই দুইদিনে হিরো হয়ে যেতে পারবা না। ইট ইজ আ প্রসেস। ছোট ছোট অপ্রাপ্তি-প্রাপ্তি মিলিয়ে মিশিয়েই সাফল্যটা ধরা দেয়। তবে আমার মনে হয় এদিক থেকে কিছু জিনিষ বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
শচীন আমার প্রিয় মানুষদের একজন। তার টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান ২৪৮। এটা কোন বড় রান না যেখানে লারার ৪০০ আছে। কিন্তু এই ইনিংসটার একটা মাহাত্ম্য ছিল। শচীন সেই ম্যাচের আগে টানা বেশ কয়েকটি ম্যাচে অফ সাইডের বাইরের বল খেলতে গিয়ে কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছিলেন। তার দুর্বলতা সেখানে তিনি তা বুঝতে পেরেছিলেন। তাই এই ২৪৮ রানের ইনিংসে তিনি অফ সাইডে করা একটি বলও খেলেননি সেদিন! ৩৭৯ বলের মাঝে অফ সাইডে একটি শটও খেলেন নি। এই ব্যাপারটা থেকে দুটো জিনিষ স্পষ্ট হয়, ধৈর্য আর আরেকটা জিনিষ, যেটা আমরা পারতপক্ষে পাত্তা দেই না-”নিজের লিমিটেশন সম্পর্কে জানা”। শচীন জানতেন তার সীমাবদ্ধতা কতটুকু। তার বাইরে তিনি চেষ্টা করেন নি। আমাদেরও অন্তত বোঝা উচিত, আমার সীমাবদ্ধতা কতটুকু। তার মাঝে কাজ করে যদি পুরো এফোর্টটুকু দেয়া যায় তাহলে সাফল্য নিশ্চিত। কিন্তু সেই সীমার বাইরে গিয়ে নিজে পরিশ্রম করলে কতটুকু আউটকাম আসবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
এই টপিকটা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে- আমি জানি আমি কোনটা একেবারেই পারি না, তার মানে আমি কি কখনো সেটা করবোই না? তাহলে নতুন জিনিষ শিখবে কী করে?
গুড কোশ্চেন!
শচীন তার সেদিনের ইনিংসে অফ সাইডে কোন শট খেলেন নি। কিন্তু তার বাকি শত শত ম্যাচেও কি তাই ছিলেন? উহুম! পরিস্থিতির প্রয়োজনে নিজেকে সংকুচিত করে নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে ঠিকই অনুশীলন করে ভুলগুলো শুধরে ফেলেছিলেন। যদি তুমি নাই জানো তুমি কী পারো না, তাহলে কীভাবে তুমি সেটা পারার চেষ্টা করবে? তাই এই যে নিজেকে জানা ব্যাপারটা, এটা খুবই বেশি দরকারী।
তার পাশাপাশি আরেকটা ব্যাপার দরকার। কনফিডেন্স, যেটা শিরোনাম হিসেবে লিখে ফেলেছি!
তুমি যা পারো না তা সযত্নে এড়িয়ে যাওয়ার জন্যেও কনফিডেন্স দরকার। মানে, তুমি একটা কাজ করার জন্যে যেমন কনফিডেন্স দরকার তেমনি একটা কাজ না করার জন্যেও যথেষ্ট কনফিডেন্সের দরকার হয়। শচীন কিন্তু জানেন, তিনি পারবেন না, তাই কনফিডেন্সের সাথে তা ইগ্নোর করে গিয়েছেন।
তবে ভাই, আমার যে কনফিডেন্স নাই। আমি কীভাবে কনফিডেন্স পাব কোন কিছু নিয়ে যে আমি কাজটা পারব কি পারব না?
কনফিডেন্স আসলে বড়ই না, যে গাছে নাড়া দিলেই টুপ্টাপ করে পড়বে।
একটা টাস্কের মাঝ দিয়ে যাই। ধরো, আমি একটা কাজ পারি না, আমি মনে করি আমি কখনো পারবো না, কিন্তু আমার মনে হয় আমার কাজটা পারা উচিত, কিন্তু সাহস পাচ্ছি না, কনফিডেন্স পাচ্ছি না। কী করবো?
কিচ্ছু করতে হবে না, কাজটা একদিন হঠাৎ করেই করার চেষ্টা করে ফেল। যদি দেখো পারছো না একদমই, তাহলে তুমি বুঝলে ব্যাপারটা তোমার দ্বারা হবে না। ইহলোকে সবাই সব পারে না, তখন তুমি পরবর্তী যেকোন সময় কনফিডেন্সের সাথে কাজটাকে ইগ্নোর করতে পারবা। তোমার মাঝে এই দোটানা থাকবে না যে, আমি জানি আমি পারব না, কিন্তু পারা উচিত। তোমার মাথায় তখন ঘুরবে, আমি জানি আমি আরব না, তাই আমি করবই না। সবার সবকিছু করতে হয় না :p
কিন্তু, যদি তোমার মাঝে ব্যাপারটা থাকে তাহলে দেখবে তুমি কাজটা কষ্ট করে হলেও করে ফেলেছো :D তখন দেখবে মজা। তোমার মাঝে যেকোন কিছু করার জন্যে কনফিডেন্সটা এসে গেছে। হ্যাঁ, এইক্ষেত্রেও কনফিডেন্সটা গেইন করে ফেলা সম্ভব। ট্রাস্ট মি। আমার বন্ধুরা এটা নিয়ে প্রায়ই মজা করে, কিন্তু কথা সত্য, আমি সাইকেল চালানো শিখেছি এই বছরের এপ্রিলে, মাত্র কয়েক মাস আগে। আমার বন্ধুরা জানে আমি সাইকেল নিয়ে কতটা ভীতু ছিলাম।সাইকেলে উঠলেই হাত-পা কাঁপতো! আমি ধরেই নিয়েছিলাম, সাইকেল আমার দ্বারা হবে না একদমই। শুধু শুধু শেখার চেষ্টা করে স্ট্যামিনা নষ্ট করে লাভ নেই :P
কিন্তু একদিন ভীমরতি হলো, হঠাৎ একদিন ট্রাই করলাম, সেদিন আমি পারব না সেই ব্যাপারটা থাকলেও, আমাকে পারতে হবে সেই ব্যাপারটা ছিল না। যাস্ট সাইকেলে উঠে বন্ধুর সহায়তায় একটা টান দিলাম, বাস। সেদিন হঠাৎ করে বুঝলাম, আরে আমি তো পারি। কখনো হয়তো সেভাবে চেষ্টাই করি নাই!!!
হ্যাঁ, সেদিনের পর থেকে যেকোন কিছু নিয়ে কনফিডেন্স লেভেল বেশ উপরে থাকে আমার। কোন কাজ যদি আমি আগে জানতাম যে “হয়তো” পারব, সেখান থেকে পরিবর্তিত হয়ে এখন হয়ে গেছে, “হ্যাঁ পারব”। একবার যেই কনফিডেন্সটা আসে না, তাহলে এই যে উপরে এত এত কথাবার্তা তার কোনটাই লাগবে না। কনফিডেন্স ইজ আ জেম ওয়ান্স ইউ হ্যাভিট, ইউ ক্যান ডূ থিংস দ্যাট ইউ নেভার থট ইউ কুড ডু এভার!
বেশ কিছু বন্ধু মানুষের সাথে দিনরাত কথা হয়, তারা খুব হতাশ, আমার আশেপাশের মানুষ এতকিছু করছে, আমি কিছুই করছি না, আমি খুবই হতাশ ইত্যাদি। তাদেরকে কিছু কথা বুঝিয়ে পারা যায় না, Every Child is Special :p You are too... Just follow the steps:
* জানতে চেষ্টা করো তুমি কী পারো, কী পারো না, তোমার সীমাবদ্ধতা কতটুক যার বাইরে তুমি কিছুই পারবে না।
* সীমার ভেতরে থেকে যতটুক ভাল করা সম্ভব করো। ডোন্ট যাস্ট ফলো আশেপাশের লোকজন, “আল্লা কতকিছু করে ফেলছে”, তুমি তোমার সীমার মাঝে অসীম কিছু করে ফেলো, এটা অবশ্যই “আল্লা কতকিছু”-র মাঝে পড়ে :p
* এসব শেষ হলে তারপর সীমা লঙ্ঘন করো। তুমি এতদিনে জেনে গেছ তুমি কী পারো না। এবার সেই না পারার লিস্টটাকে ধরো, বের করো কোনটা তুমি একদমই পারো না, কিন্তু তোমার পারা উচিত। তারপর সেটা ট্রাই করো।
*যদি না পারো তাহলে বুঝবা, এটা সীমা থেকে অনেকদূরে, তাই আর চেষ্টা করার দরকার নেই। কনফিডেন্সের সাথে সেই কাজকে টাটা বাইবাই বলবা সবসময়। বরং অন্য কিছু করি।
*আর যদি পেরেই যাও, তাহলে তো গ্রেট। কনফিডেন্স লেভেল এতটা উঠবে যে দেখবে না পারা অনেককিছুই মনের জোর করে ফেলছো। শরীরের চেয়ে মনের জোর বেশি লাগে কোন কিছুতে। আর এভাবেই সীমাটাকে বড় করতে থাকো। একদম প্রথমেই সীমাটাকে অতিক্রম কইরো না।
Know Your Limits, Then Utilize. Then If You Get Time, Expand Your Limits.
Comments
Post a Comment