এই শহরের বয়স প্রায় ১৫ দিন।
এই শহরের পথেঘাটে বিপন্ন বিস্ময়। এখানে ভোরের আলো ফুঁটে এক ঝাঁক ব্যস্ততা নিয়ে- নিয়মতান্ত্রিক ব্যস্ততা। এখানে অনিয়ম নেই, গাড়ির হেডলাইটের হলুদ আলো গুলো একই সরলরেখা বরাবর চলতে থাকে, লাল দেখলেই আবার থেমে যায়! সবুজের অপেক্ষায় বসে থাকে চক্র হাতে মানুষগুলো! আবার ফুটপাথের কিনারায় দুপায়ে ভর করে দাঁড়িয়ে থাকে সাদা আলোর অপেক্ষায় থাকা দুয়েকজন একা মানুষ!
একাকিত্ব আপনাকে গ্রাস করতে পারবে না এখানে। এখানে একসাথে এত একা মানুষ, যে একাকিত্ব নতুন করে দানা বাঁধতে লজ্জা পায়! রাত ১১টায় পার্কিং এর পাশে ঠান্ডা বাতাসে দাঁড়িয়ে থাকা একা মানুষটা যেমন এক আশায় তাকিয়ে থাকে চারকোণা আলোর দেয়ালটার দিকে, তেমনি চার দেয়ালের ভেতর চারকোণা নরম বিছানায় থাকা একা অবশ শরীরটাও ভাবে জানালাটা খুললে কি একটু আলো আসবে? বা একটু রোদ? নাকি শুধু বিপন্ন বিস্ময়?
একা মানুষগুলোর জন্যে অবসর একটা অভিশাপ। অবসর যে শূন্যতা আনে সে শূন্যতায় একা মানুষটা একাও থাকতে পারে না শান্তিমতো, সে নিজেকেও হারিয়ে ফেলে সেখানে। সে আর তখন এক(আ) থাকে না, সে হয়ে যায় শূন্য! ব্যস্ত শহরের বাকি ইতিহাসটাও তখন হারিয়ে যায় শূন্যতায়। যে শহরের পরিষ্কার বাতাসে শ্বাস নেওয়ার কথা ছিল খুব সহজে, সে বাতাসটাও তখন দমবন্ধ লাগে! তখন মনে হয় একটু দূষণ দরকার, যে দূষণে ফুস্ফুস ধ্বংস হয়, মস্তিষ্কের নিউরনগুলো পায় একটু অবসর- শুধু হার মানাতে একা অবসরকে!
এই শহরের অস্থিরতার বয়স বাড়বে আরো, কিন্তু একা মানুষগুলো এখনো বন্ধ চোখে ভাবে আকাশ-তার আঁচল-তার চোখের নদীতে বৃষ্টির সব গান! আশায় থাকে এক মুখর কলতানের, কোন একদিন- শহরের নীরবতা ভাঙবে, ভাঙবে নিশ্চয়!
Comments
Post a Comment